পথশিশুদের মধ্যে বাড়ছে মাদকাসক্তির ঝুঁকি, সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ‘ড্যান্ডি’তে

রাজধানীর কেরানীগঞ্জে বুড়িগঙ্গা নদীর বেড়িবাঁধ ঘেঁষে ছোট একটি ছাউনিতে বাস করে ১০-১৫ জন পথশিশু। সারাদিন ভাঙারি কুড়িয়ে সন্ধ্যায় ফিরে আসে তারা। আর তখনই অনেকে জড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন নেশায়। সবচেয়ে বেশী ব্রাবহার করে ‘ড্যান্ডি’ ও ‘বাবা’ নামের মাদক। ‘ড্যান্ডি’ মূলত এক ধরনের আঠা বা সলিউশন, যাতে থাকে টলুইন নামের রাসায়নিক উপাদান। টলুইন মাদকদ্রব্যের তালিকাভুক্ত। ড্যান্ডি সাধারণত জুতা তৈরি বা রিকশার টায়ার-টিউব লাগানোর কাজে ব্যবহৃত হয়। দীর্ঘমেয়াদে এই নেশা শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে। পড়াশোনা ও স্বাভাবিক সামাজিকীকরণেও তৈরি করে বড় প্রতিবন্ধকতা।

রাস্তা দিয়ে চলাচলের সময় পথচারীদের চোখে পড়ে পথশিশুরা পিঠে বস্তা নিয়ে ভাঙ্গারী কুড়াচ্ছে আর হাতে রয়েছে পলিথিন ব্যাগে ভর্তি জুতার সলিউশন। কাজের ফাঁকে ফাঁকে তারা শুঁকে নেশা করতে থাকে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক গবেষণা অনুযায়ী, দেশের ৫৮ শতাংশ পথশিশু মাদকে আসক্ত, আর ১৪ শতাংশ শিশু ১০ বছর বয়সের আগেই মাদক গ্রহণ শুরু করে। সহজলভ্য ও তুলনামূলক সস্তা হওয়ায় পথশিশুদের মধ্যে ৩১ দশমিক ৭ শতাংশ গাঁজা সেবন করে, আর ১৫ দশমিক ২ শতাংশ আসক্ত ‘ড্যান্ডি’তে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও ইউনিসেফের হিসাবে, শুধু রাজধানীতেই ড্যান্ডি-আসক্ত পথশিশুর সংখ্যা প্রায় ৭৫ হাজার। সব মিলিয়ে দেশে প্রায় ৭০ লাখ মানুষ কোনো না কোনোভাবে মাদকের সঙ্গে জড়িত, যাদের ৮০ শতাংশই কিশোর বা তরুণ।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, সীমান্তবর্তী এলাকাভেদে মাদকের ধরনও ভিন্ন—উত্তর-পূর্ব ও ত্রিপুরা সীমান্ত-সংলগ্ন জেলাগুলোতে ফেনসিডিলের চাহিদা বেশি, আবার বঙ্গোপসাগর তীরবর্তী জেলাগুলোতে বেশি চলে ইয়াবা। রাজধানী ও চট্টগ্রামে এসব মাদকের চাহিদা সীমান্ত এলাকার তুলনায় অনেক বেশি।

বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ বলছে, পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন কিংবা পরিবার বা সমাজে নির্যাতিত-লাঞ্ছিত শিশুরাই পরবর্তীতে মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে বেশি থাকে। এ কারণে অভিভাবকদের সন্তানের সঙ্গে মাদকের কুফল নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করা, বন্ধুসুলভ আচরণ বজায় রাখা এবং সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে—এসব বিষয়ে সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

যেসব শিশুর অভিভাবক নেই, তাদের পুনর্বাসনে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থাগুলোকেও আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ফেসবুকে যুক্ত থাকুন