কে হচ্ছেন পরবর্তী জাতিসংঘের মহাসচিব

জাতিসংঘের আগামী মহাসচিব কে হবেন, তা নির্ধারণ করবে সংস্থাটির ১৫ সদস্যবিশিষ্ট নিরাপত্তা পরিষদ। পরিষদের বাছাইকৃত নাম চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য যাবে সাধারণ পরিষদে। তবে এই আসনে বসতে হলে একজন প্রার্থীকে শুধু নয়টি ভোট পেলেই চলবে না, একই সঙ্গে এড়াতে হবে স্থায়ী পাঁচ সদস্য রাষ্ট্র—যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, ফ্রান্স ও রাশিয়ার ভেটো ক্ষমতাও। ফলে বিশ্ব সংস্থাটির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব কার্যত নির্ভর করছে এই পাঁচ শক্তিধর দেশের সিদ্ধান্তের ওপর।

বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মেয়াদ শেষে তার স্থলাভিষিক্ত হতে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন মোট আটজন—পাঁচজন নারী ও তিনজন পুরুষ। বৈশ্বিক রাজনীতিতে চলমান বিভাজন ও পরাশক্তিগুলোর ভিন্নমুখী অবস্থানের কারণে কে চূড়ান্তভাবে এগিয়ে, তা নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষকরা। তবে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে পরিচালিত প্রাথমিক অনানুষ্ঠানিক জরিপে এগিয়ে ছিলেন কোস্টারিকার কূটনীতিক রেবেকা গ্রিনস্প্যান।

প্রার্থীদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি:

কোস্টারিকার সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ও আঙ্কটাডের বর্তমান প্রধান রেবেকা গ্রিনস্প্যান (৭০) ইউক্রেন যুদ্ধের সময় শস্য রপ্তানি সংক্রান্ত ব্ল্যাক সি চুক্তিতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। চিলির সাবেক প্রেসিডেন্ট মিশেল বাচেলেত (৭৪) পিনোশে শাসনামলে নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ইকুয়েডরের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া ফার্নান্দা এসপিনোসা (৬১) সংঘাত পূর্বাভাসে আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা প্রবর্তনের প্রস্তাবক।

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রধান রাফায়েল গ্রসি (৬৫) বর্তমান পদে থেকেই প্রচারণা চালাচ্ছেন এবং জাতিসংঘে সংস্কারের পক্ষে সোচ্চার। গায়ানার রাষ্ট্রদূত ক্যারোলিন রড্রিগেস-বির্কেট (৫২) জাতিসংঘের বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধারের ওপর জোর দিয়েছেন। ইকুয়েডরের কূটনীতিক ইভোনে এ-বাকি (৭৫), যিনি টোঙ্গার মনোনয়নে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতার জন্য আলোচিত।

সেনেগালের সাবেক প্রেসিডেন্ট ম্যাকি সাল (৬৪) প্রার্থীদের মধ্যে একমাত্র অ-ল্যাটিন আমেরিকান, যদিও রীতি অনুযায়ী এবার পদটি ল্যাটিন আমেরিকা থেকে যাওয়ার কথা। উগান্ডার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওলার ওতুন্নু (৭৫) কফি আনানের সময়ে শিশু ও সশস্ত্র সংঘাতবিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, চূড়ান্ত ফলাফল নির্ভর করছে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের মধ্যকার ভারসাম্য ও কূটনৈতিক দর-কষাকষির ওপর, যা আগামী মাসগুলোতে স্পষ্ট হতে শুরু করবে।

ত/জু 

ফেসবুকে যুক্ত থাকুন