ইরানের অস্থিরতা-কবলিত দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় সিস্তান ও বেলুচিস্তান প্রদেশে আধাসামরিক বাহিনী ‘বাসিজ’-এর এক নারী কমান্ডারকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। নিহত ওই কর্মকর্তার নাম আফসানেহ আঘিলা, যিনি মেহরেস্তান শহরের নারীদের বাসিজ ইউনিটের দায়িত্বে ছিলেন।
ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, আততায়ীরা আঘিলাকে তাঁর নিজ বাড়ির সামনেই গুলি করে হত্যা করে পালিয়ে যায়। তবে এ হামলার পেছনে নির্দিষ্ট কোন দল জড়িত, সে বিষয়ে ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট কিছু জানায়নি। বাসিজ মূলত আইআরজিসির অধীনস্ত একটি স্বেচ্ছাসেবী আধাসামরিক ইউনিট, যা সরকারের হয়ে অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষা, সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ এবং বিক্ষোভ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
একই দিন মেহরেস্তান শহরে পৃথক একটি হামলায় মোহাম্মদ-আলি শাহরিয়ারি নামের এক পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। একটি পুলিশ ভ্যানে অতর্কিত হামলা চালিয়ে তাঁকে হত্যা করা হয়। তবে এই দুটি ঘটনার মাঝে কোনো প্রত্যক্ষ সংযোগ রয়েছে কি না, তা নিয়ে তদন্ত চলছে।
প্রদেশটিতে সম্প্রতি সহিংসতা চরম রূপ ধারণ করেছে। ওই অঞ্চলে সক্রিয় সুন্নি সশস্ত্র দল ও বেলুচ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী ‘জৈশ আল-আদল’ তাদের এক বার্তায় দাবি করেছে—গত ২৪ ঘণ্টায় তাফতান, কুরিন এবং চাবাহার এলাকায় সরকারি বাহিনীর সঙ্গে তাদের একাধিক সশস্ত্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
সুন্নি সংখ্যাগরিষ্ঠ ও দারিদ্র্যপীড়িত সিস্তান-বেলুচিস্তান প্রদেশে গত সেপ্টেম্বর থেকে প্রায়ই সরকারি নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা ও বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটছে। ইরানের দাবি, এসব গোষ্ঠী ইসরায়েল ও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তায় অঞ্চলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। অন্যদিকে, সহিংসতা দমনে কঠোর পদক্ষেপের অংশ হিসেবে সম্প্রতি ‘জৈশ আল-আদল’-এর সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগে এক বেলুচ ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে তেহরান।
(সূত্র: আল-মনিটর)
ত/জু



